Pages

Pages

বাংলা শব্দ দিয়ে সার্চ করুন

Sunday, February 26, 2017

আমরা মুসলিম এবং এটাই আমাদের পরিচয়

আমরা মুসলিম [WE ARE MUSLIM]
[There Are No Divison in Islam]
[Read Quran for Details]
১.[সুরা বাকারাহ : আয়াত 128]
পরওয়ারদেগার! আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ(মুসলিম)করো এবং আমাদের বংশধর থেকেও একটি অনুগত(মুসলিম) দল সৃষ্টি কর,আমাদের হজ্বের রীতিনীতি বলে দাও এবং আমাদের ক্ষমা কর।নিশ্চয় তুমি তওবা কবুলকারী । দয়ালু ।
২.[সুরা বাকারাহ : আয়াত132] এরই ওছিয়ত করেছে ইব্রাহীম তার সন্তানদের এবং ইয়াকুব ও যে,হে আমার সন্তানগণ, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এ ধর্মকে মনোনীত করেছেন।কাজেই তোমরা [মুসলিম] না হয়ে কখনও মৃত্যুবরণ করো না।
৩.[সুরা বাকারাহ : আয়াত:136] তোমরা বল,আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের প্রতি এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে ইব্রাহীম,ইসমাঈল,ইসহাক,ইয়াকুব এবং তদীয় বংশধরের প্রতি এবং মূসা,ঈসা,অন্যান্য নবীকে পালনকর্তার পক্ষ থেকে যা দান করা হয়েছে,তত্‍সমুদয়ের উপর। আমরা তাদের মধ্যে পার্থক্য করি না । আমরা তাঁরই আনুগত্যকারী(মুসলিম) ।
৪.[সুরা আলে ইমরান : আয়াত 52] অতঃপর ঈসা(আঃ)যখন বণী ইসরায়ীলের কুফরী সম্পর্কে উপলব্ধি করতে পারলেন,তখন বললেন,কারা আছে আল্লাহর পথে আমাকে সাহায্য করবে? সঙ্গী-সাথীরা বললো,আমরা রয়েছি আল্লাহর পথে সাহায্যকারী । আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি। আর তুমি সাক্ষী থাকো যে,আমরা হুকুম কবুল করে নিয়েছি[মুসলিম হয়েছি]
৫.[সুরা আলে ইমরান : আয়াত 64] বলুনঃ‘হে আহলে-কিতাবগণ!একটিবিষয়ের দিকে আস-যা আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান-যে,আমরা আল্লাহ ছাড়াঅন্য কারও ইবাদত করব না,তাঁর সাথে কোন শরীক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্রআল্লাহকে ছাড়া কাউকে পালনকর্তা বানাব না।তারপর যদি তারা স্বীকার না করে,তাহলেবলে দাও যে, ‘সাক্ষী থাক আমরা তো [মুসলিম]।
৬.[সুরা আলে ইমরান : আয়াত 102] হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমনভয় করা উচিত ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাকো এবং অবশ্যই [মুসলিম] না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না ।
৭.[সুরা আল আনআম : আয়াত 163] তাঁর কোন অংশীদার নেই।আমি তাইআদিষ্ট হয়েছি এবং আমি প্রথম [মুসলিম]
৮.[সুরা আল ইউনুছ : আয়াত 72] তারপরও যদি বিমুখতা অবলম্বন করো,তবে আমি তোমাদের কাছে কোন রকম বিনিময় কামনা করি না।আমার বিনিময় হলো আল্লাহর দায়িত্বে। আর আমার প্রতি নির্দেশ রয়েছে যেন আমি আনুগত্য অবলম্বন করি [মুসলিম হই]।
৯.[সুরা আল হুদ : আয়াত 14] অতঃপর তারা যদি তোমাদের কথাপুরণ করতে অপারগ হয়;তবে জেনে রাখ,এটি আল্লাহর এলম দ্বারা অবতীর্ণ হয়েছে;আরোএকীন করে নাও যে,আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন মাবুদ নেই।অতএব,এখন কি তোমরা মুসলিম হবে?
১০.[সুরা আল হিজর : আয়াত :2] কোন সময় কাফেররা আকাংখা করবে যে,কি চমত্‍কার হত,যদি তারা মুসলিম হতো ।
১১.[সুরা আল হাজ্জ্ব : আয়াত 78] তোমরা আল্লাহর জন্যে শ্রম স্বীকার কর যেভাবে শ্রম স্বীকার করা উচিত । তিনি তোমাদেরকে পছন্দ করেছেন এবং ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন সংকীর্ণতা রাখেননি । তোমরা তোমাদের পিতা ইব্রাহীমের ধর্মে কায়েম থাক । তিনিই তোমাদের নাম [মুসলিম] রেখেছেন পূর্বেও এবং এই কোরআনে ও,যাতে রাসূল তোমাদের জন্যে সাক্ষ্যদাতা এবং তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলির জন্যে । সুতরাং তোমরা নামায কায়েম কর,যাকাত দাও এবং আল্লাহকে শক্তভাবে ধারণ কর। তিনিই তোমাদের মালিক। অতএব তিনি কত উত্তম মালিক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী।
১২.[সুরা আন নামল : আয়াত 81] আপনি অন্ধদেরকে তাদেরপথভ্রষ্টতা থেকে ফিরিয়ে সৎপথে আনতে পারবেন না।আপনি কেবল তাদেরকে শোনাতেপারবেন,যারা আমার আয়াতসমূহে বিশ্বাস করে।অতএব,তারাই [মুসলিম]।
১৩.[সুরা আন নামল : আয়াত 91] আমি তো কেবল এই নগরীর প্রভুরএবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি,যিনি একে সম্মানিত করেছেন।এবং সব কিছু তাঁরই।আমিআরও আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি [মুসলিম]দের একজন হই ।
১৪.[সুরা আন ক্বাছাছ : আয়াত 53] যখন তাদের কাছে এটা পাঠ করাহয়,তখন তারা বলে,আমরা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম।এটা আমাদের পালনকর্তারপক্ষ থেকে সত্য।আমরা এর পূর্বেও [মুসলিম] ছিলাম।
১৫.[সুরা আনকাবুত : আয়াত 46] তোমরা কিতাবধারীদের সাথেতর্ক-বিতর্ক করবে না,কিন্তু উত্তম পন্থায়;তবে তাদের সাথে নয়,যারা তাদেরমধ্যে বে-ইনসাফ।এবং বল,আমাদের প্রতি ও তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে,তাতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি।আমাদের উপাস্য ও তোমাদের উপাস্য একই এবং আমরা তাঁরই আজ্ঞাবহ(মুসলিম) ।
১৬.[সুরা যুমার : আয়াত 12] আরও আদিষ্ট হয়েছি,সর্ব প্রথম [মুসলিম] হওয়ার জন্যে ।
১৭.[সুরা হামীম সাজদাহ(ফোসসিলাত) : আয়াত 33]সেই ব্যাক্তির চেয়ে আর কে উত্তম হতে পারে যে,মানুষকে আল্লাহর পথে আহবান করে আর বলে আমি তো মুসলিম।
১৮.[সুরা আল যুখরুফ : আয়াত 69] তোমরা আমার আয়াতসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে এবং তোমরা [মুসলিম] ছিলে। [সুরা আল যুখরুফ : আয়াত 70]জান্নাতের প্রবেশ কর তোমরা এবং তোমাদের বিবিগণ সানন্দে।
১৯.[সুরা আল আহকাফ : আয়াত 15] আমি মানুষকে তার পিতা-মাতারসাথে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি।তার জননী তাকে কষ্টসহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবংকষ্টসহকারে প্রসব করেছে।তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়তে লেগেছে ত্রিশমাস।অবশেষে সে যখন শক্তি-সামর্থে?র বয়সে ও চল্লিশ বছরে পৌছেছে,তখন বলতে লাগল,হে আমার পালনকর্তা,আমাকে এরূপ ভাগ্য দান কর,যাতে আমি তোমার নেয়ামতের শোকরকরি,যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয়সৎকাজ করি।আমার সন্তানদেরকে সৎকর্মপরায়ণ কর,আমি তোমার প্রতি তওবা করলাম এবং আমি [মুসলিম]দের অন্যতম ।
২০.[সুরা আল জ্বীন : আয়াত 14](জ্বীনেরা বলেছিলো) আমাদের কিছু সংখ্যক [মুসলিম] এবং কিছু সংখ্যক অন্যায়কারী । যারা [মুসলিম] হয়,তারা সৎপথ বেছে নিয়েছে।
[Note:উপরোক্ত ২০টি আয়াতে মুসলিম নামে আমাদেরকে বুঝানো হয়েছে । আমাদের জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ) ও মোহাম্মাদুর রাছুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম সহ সকল নবী রাসুলগণ ও তার সাহাবীরা ছিলেন মুসলিম । তবে রাছুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম এর ইন্তেকালের পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত সময়ে অনেকের নামেই অনেক দল গড়ে উঠে ।
যেমনঃ ১.শিয়া ২.সুন্নী ৩.হানাফি ৪.শাফেই ৫.মালেকী ৬.হাম্বলী ৭.সালাফি ৮.আহলে হাদিছ ৯.তাবলীগী ১০.বেরলভি ১১.চিশতি ১২.কাদেরী ১৩.নখশেবন্দী ১৪.কাদিয়ানী ১৫.রেজভি ১৬.মওদুদী ১৭.হারুনি ১৮.মোহাম্মাদী ১৯.দ্বীন এ ইলাহী ২০.সাবেরি
যারা মুসলিম বাদে এরকম অন্য কোনো শিরোনাম বা Title লাগিয়ে পরিচয় দেয় তারা অবশ্যই ভ্রষ্টতার মধ্যে রয়েছে হোক সে যতই জ্ঞানী লোকের অনুসারী ঐ লোক তো আর আল্লাহ তায়ালার রাছুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম এর চেয়ে বেশী জ্ঞানী নয় আর চার ইমামসহ সকল ছাহাবায়ে কেরাম কেউই মুসলিম ব্যতীত অন্য কিছু ছিলো না । আমরা পৃথিবীর সকল মানুষের কথা মেনে চলবো যদি তাদের কথা কুরআন ও বিশুদ্ধ হাদিছ অনুযায়ী বলে এবং পৃথিবীর সকল মানুষের কথা বাদ দিয়ে রাছুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম এর তরীকা অনুযায়ী চলবো,যদি তাদের কথা কুরআন ও বিশুদ্ধ হাদিছ অনুযায়ী না হয় ।
আমরা ইমাম আবু হানিফার কুরআন ও বিশুদ্ধ হাদিছসম্মত মতামতগুলোকে মানি তাই বলে নিজেদেরকে হানাফি বলা যাবে না । একইভাবে যে কোনো ইমামের কুরআন ও বিশুদ্ধ হাদিছসম্মত মতামতগুলোকে মানি তাই বলে নিজেদেরকে তার নামের সাথে সম্পৃক্ত করে পরিচয় দেওয়া যাবে না । একইভাবে সালাফে সালেহীনদেরকে মানি বলে নিজেদেরকে সালাফি বলা যাবে না এবং কুরআন ও বিশুদ্ধ হাদিছ মানি বলে নিজেদেরকে আহলে হাদিছ বলে পরিচয় দেওয়া যাবে না । কারণ আলাদা গুণ বা পরিচয়ের জন্যই এতগুলো ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে ইসলাম ।
আল্লাহ আমাকে সহী বুঝ দান করুন!
সংগৃহিত।।

No comments:

Post a Comment