Pages

Pages

বাংলা শব্দ দিয়ে সার্চ করুন

Sunday, February 19, 2017

৪ টি শিক্ষামূলক গল্প !!! সবাই পড়ুন!

একটি জরুরী সার্জারির জন্য তাড়াহুড়ো করে এক ডাক্তারকে হাঁসপাতালে ডেকে পাঠানো হল । সে তড়িৎ গতিতে হাসপাতালে পৌঁছে গেলো । হাঁসপাতালে ঢুঁকেই সে নিজেকে দ্রুত প্রস্তুত করে নিল সার্জারির জন্য ।
এরপর সার্জারির ব্লক এ গিয়ে সে দেখল রোগীর ( একটি ছোট্ট ছেলে ) বাবা ওখানে পায়চারি করছে ডাক্তারের অপেক্ষায় , ডাক্তার কে দেখামাত্র লোকটি চেঁচিয়ে উঠল- আপনার আসতে এত দেরি লাগে? দায়িত্ববোধ বলতে কিছু আছে আপনার? আপনি জানেন আমার ছেলে এখানে কতটা শোচনীয় অবস্থায় আছে ????
ডাক্তার ছোট্ট একটা মুচকি হাঁসি হেঁসে বলল- ” আমি দুঃখিত, আমি হাসপাতালে ছিলাম না, বাসা থেকে তাড়াহুড়ো করে এলাম, তাই খানিক দেরি হল, এখন আপনি যদি একটু শান্ত হন, তবে আমি আমার কাজটা শুরু করি?
লোকটি এবার যেন আরও রেগে গেলো, ঝাঁঝাঁলো স্বরে বলল- ” ঠাণ্ডা হব? আপনার সন্তান যদি আজ এখানে থাকতো? আপনার সন্তান যদি জীবন মৃত্যুর মাঝে দাঁড়িয়া থাকতো, তাহলে আপনি কি করতেন? শান্ত হয়ে বসে থাকতেন??
ডাক্তার আবার হাঁসলেন আর বললেন ” আমি বলব পবিত্র গ্রন্থে বলা হয়েছে মাটি থেকেই আমাদের সৃষ্টি আর মাটিতেই আমরা মিশে যাব! ডাক্তার কাউকে দীর্ঘ জীবন দিতে পারেন না। আপনি আপনার সন্তান এর জন্য প্রার্থনা করতে থাকুন আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ।”
লোকটি পুনরায় রাগত স্বরে বলল- যখন আপনার টেনশন না থাকে তখন উপদেশ দেয়া সহজ ই !!
এরপর ডাক্তার সাহেব সার্জারির রুম এ চলে গেলো, ২ ঘণ্টার মত লাগলো , শেষে হাসি মুখে ডাক্তার হাসি মুখে বের হয়ে এলেন, “আলহামদুলিল্লাহ অপারেশন সফল” । এরপর লোকটির উত্তরের অপেক্ষা না করেই ডাক্তার আবার বলে উঠলেন- আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে নার্স কে জিজ্ঞেস করুন, বলে তিনি চলে গেলেন।
এরপর লোকটি নার্স কে বললেন- ডাক্তার এত ভাব নেন কেন? তিনি কি আর কিছুক্ষণ এখানে দাঁড়াতে পারতেন না? যাতে আমি ওনাকে আমার সন্তান এর ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করতাম ।
নার্স কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন আর জানালেন- ডাক্তার এর ছেলে আজ সকালে মারা গেছেন রোড এক্সিডেন্টে, তিনি আপনার ফোন পেয়ে ওনার ছেলের জানাজা থেকে উঠে এসেছেন , এখন আবার দৌড়ে চলে গেলেন- কবর দিতে ।
Moral : একজন মানুষকে তার বাইরের আচরন দেখে যাচাই করবেন না, কারন আপনি কখনই জানেন না তিনি কিসের মাঝে আছেন !​
390308_270729182964890_100000834327851_695393_1555368526_n - Copyএক লোক রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। রাস্তার পাশেই একটা হাতি দড়ি দিয়ে বাঁধা । হাতিটাকে এই অবস্থায় দেখে লোকটা খুব অবাক হলো। কোন শিকল নেই, কোন খাঁচাও নেই। হাতিটার এক পা শুধু একটা পাতলা দড়ি দিয়ে বাঁধা । চাইলেই হাতিটা যে কোন মুহূর্তে দড়ি ছিঁড়ে চলে যেতে পারে। কিন্তু হাতিটা সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে। দড়ি ছিঁড়ে চলে যাচ্ছেনা বা ছেঁড়ার কোন চেষ্টাই করছেনা।
অনেকক্ষন আনমনে ভাবলো লোকটা। ঘোর কাটছেনা কিছুতেই। সুযোগ থাকার পরও হাতিটা মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেনা কেন? কি এমন কারণ থাকতে পারে এর পেছনে? ঘটনাটা বেশ চিন্তায় ফেলে দিয়েছে লোকটাকে।
কিছুদূর যাওয়ার পর একজন ট্রেইনারের সাথে দেখা হলো তার । “সুযোগ থাকার পরও হাতিটা স্থির দাঁড়িয়ে আছে কেন? কেন সে দড়ি ছিঁড়ে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেনা? ” অনেক আগ্রহ নিয়ে ট্রেইনারকে জিজ্ঞাসা করলো লোকটা।
লোকটার প্রশ্ন শুনে হেঁসে উঠলো ট্রেইনার। বললো “হাতিটা যখন অনেক ছোট ছিল, তখন এরকমই একটা পাতলা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হতো তাকে। তখন বাচ্চা হাতিটাকে বেঁধে রাখার জন্য এই ছোট দড়িটাই যথেষ্ট ছিল। তাই চেষ্টা করার পরও দড়ি ছিঁড়ে সে মুক্ত হতে পারেনি। এরপর সে বিশ্বাস করা আরম্ভ করলো তার পক্ষে এই দড়ি ছিঁড়ে মুক্ত হওয়া সম্ভব না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাতিটা অনেক পরিনত হয়েছে, কিন্তু তার সেই বিশ্বাস এখনও আছে। সে এখনও ভাবে তার পক্ষে এই দড়ি ছিঁড়ে মুক্ত হওয়া সম্ভব না। তাই সে দড়ি ছিঁড়ে মুক্ত হওয়ার কোন চেষ্টাই করেনি আর” ।
লোকটা অভিভূত হয়ে গেল! নিজেকে মুক্ত করার সুযোগ থাকার পরও হাতিটা যেখানে ছিল সেখানেই স্থির হয়ে আছে কারণ সে ভাবে তার পক্ষে মুক্ত হওয়া সম্ভব না! এমনকি সে আর চেষ্টাই করে দেখেনি!
Moral : কোন কাজে দু-একবার ব্যর্থ হয়েছি বলে আমাদের কতজন এই হাতিটার মতো “পারবনা” ভেবে জীবনকে এক জায়গাতেই ঝুলিয়ে রেখেছি? কতজন ভাবছি আমরা অক্ষম, আমাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব না? জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটা কখনো ফুরিয়ে যায়না। ব্যর্থতা শিক্ষার একটা অংশ, ব্যর্থ হয়েছি বলে কখনই চেষ্টা করা ছেড়ে দেওয়া উচিত না।
1393354_665550410136607_1134078937_n - Copy
৩. ইমরান রহমান একজন স্কুল শিক্ষক। ছাত্রদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং শিক্ষাদানের অভিনব কৌশলের জন্য তিনি ছাত্রমহলে বেশ জনপ্রিয়। একদিন ক্লাশে এসে ছাত্রদের বললেন, “আমি তোমাদের সাথে একটা গেম খেলতে চাই, খেলবে তোমরা গেম?”
ছাত্ররা তো মহাখুশি। গেম কে না খেলতে চায়! সবাই এক বাক্যে রাজী। গেম খেলবে তারা।
– “ঠিক আছে। আগামীকাল একটা ব্যাগে করে কিছু টমেটো নিয়ে আসবে তোমরা। ওকে?”
ছাত্ররা ব্যাগ ভর্তি টমেটো নিয়ে এলো। “এখন কি করবো স্যার?” ছাত্রদের উৎসুক জিজ্ঞাসা।
– “তোমরা যাকে/যাদের সহ্য করতে পারনা বা ঘৃণা কর তাদের নাম একটা একটা করে টমেটোগুলোর গায়ে লেখ”।
ছাত্ররা ব্যাপক উৎসাহে টমেটোর গায়ে নাম লিখতে থাকলো। কেউ ১ টা, কেউ ২ টা, কেউবা ৫ টা পর্যন্তু টমেটোর গায়ে নাম লিখলো।
“যে যতগুলো টমেটোর গায়ে নাম লিখেছো সেগুলো আবার নিজ নিজ ব্যাগে রাখ। এই টমেটোগুলো আগামী ১ সপ্তাহের জন্য সবসময় তোমাদের সাথেই রাখবে। ঘুম, খাওয়া, পড়া যা-ই কর না কেন সবসময়ই এই টমেটোগুলো যেন তোমাদের পাশেই থাকে।”
এভাবে কয়েকদিন যাবার পর টমেটোগুলো থেকে প্রচণ্ড দূর্গন্ধ আসছে বলে অভিযোগ করলো ছাত্ররা। উপরন্তু যাদের ব্যাগে ৫ টা টমেটো ছিল তারা বেশ ঝামেলায় পড়ে গেল। ৫ টা টমেটোর ওজন একেবারেই কম না। ছোট ছোট বাচ্চাদের জন্য সেটা বহন করা বেশ কষ্টকর হয়ে গেল। কাজেই যে উৎসাহ নিয়ে ছাত্ররা গেমটা আরম্ভ করেছিল তা বিরক্তিতে পরিণত হলো দিনেদিনে।
অবশেষে ১ সপ্তাহ শেষ হলো। ছাত্ররা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল এই গেমের অবসানে।
স্যার জিজ্ঞেস করলেন, “এই এক সপ্তাহ কেমন কাটলো তোমাদের?”
ছাত্ররা তাদের হতাশা ও অসুবিধার কথা খুলে বললো স্যারকে। টমেটোর দূর্গন্ধ ও ওজন তাদের যে ভোগান্তিতে ভুগিয়েছে তা বিস্তারিত জানালো।
স্যার তাদের গেমটার গোপন অর্থ খুলে বললেন। এই ঘটনাটা অনেকটা হৃদয়ে কারও প্রতি রাগ বা ঘৃণা বয়ে বেড়ানোর ঘটনার মতো। ঘৃণা বা রাগ ধীরে ধীরে তোমাদের হৃদয়কে দূষিত ও কলুষিত করে তোলে, যেটা তোমাদের সবসময়ই বয়ে বেড়াতে হয়। মাত্র ১ সপ্তাহ পঁচা টমেটো তোমাদের সাথে বয়ে নিয়ে বেড়ানোতেই তা তোমাদের জন্য অসহ্য হয়ে উঠেছে। পঁচা টমেটোর দূর্গন্ধ ও ওজন তোমাদের অতিষ্ঠ করে তুলেছে। কাউকে যদি তোমরা ঘৃণা কর, অনেকদিন তার প্রতি রাগ পুষে রাখ, তাহলে তোমাদের হৃদয়ের কি অবস্থা হবে কল্পনা করতে পার?
মরাল : হৃদয় থেকে অন্যের প্রতি ঘৃণা বা রাগ মুছে ফেল যাতে সারা জীবন কোন পাপ বয়ে নিয়ে বেড়াতে না হয়। ক্ষমা করার গুন মানুষকে সুখী হতে সাহায্য করে। ​
index


৪/নৌকায় করে রাজা রাজ্যের অন্য অংশে যাচ্ছেন। মন্ত্রী নৌকার ছাউনিতে ঘুমিয়ে আছে। নৌকার মাঝিরা কথা বলছে,
১ম মাঝি: দেখ, আমরা কত কষ্ট করে নৌকা চালচ্ছি আর মন্ত্রী বেটা কি আরামে ঘুমিয়ে আছে। সারাদিন এতো খেটেও আমরা তেমন আয়-উপার্জন করতে পারি না। অথচ দেখ, অল্প পরিশ্রম করেও মন্ত্রীর কত্তো টাকা বেতন পায়। আমাদের প্রতি এটা তো চরম অবিচার।
২য় মাঝি: ঠিকই বলেছিস, চরম অবিচার এটা।
রাজা দূরে বসেও মাঝিদের কথা শুনতে পেয়েছেন। তিনি ভাবলেন মাঝিদের কথা উত্তর তিনি ভিন্ন ভাবেই দেবেন।
একটু পরে নৌকা একটা ঘাটে ভীড়ে সকলেই বিশ্রাম নিচ্ছেন। হঠাৎ কয়েকটা কুকুরের ডাকাডাকিতে রাজা বিরক্ত হয়ে ১ম মাঝিকে বললেন, দেখে আসতে যে, কি কারণে কুকুরগুলো ডাকাডাকি করছে।
বেশ কিছু সময় পর মাঝিটি দৌড়ে ফিরে এসে বললেন, খাবারের কাড়াকাড়ি করার জন্য কুকুরগুলো ঝগড়া করছে।
রাজা: কয়টা কুকুর ঝগড়া করছে?
মাঝি: তা তো খেয়াল করি নি।
রাজা: যাও, দেখে আসো।
আবার মাঝি দৌড়ে গিয়ে দেখে এসে বললো, ৩টা কুকুর ও তাদের ছানা পোনারা।
রাজা: কয়টা ছানাপোনা?
মাঝি: তা তো খেয়াল করি নি।
রাজা: যাও, দেখে আসো।
আবার মাঝি দৌড়ে গিয়ে দেখে এসে বললো, ৪টা ছানাপোনা।
রাজা: এদের কয়টা মাদী আর ময়টা মর্দ?
মাঝি: তা তো খেয়াল করি নি।
রাজা: যাও, দেখে আসো।
আবার মাঝি দৌড়ে গিয়ে দেখে এসে বললো, ৪টা মর্দ ও ৩টা মাদী।
রাজা: তাদের গায়ের রং কি?
মাঝি: তা তো খেয়াল করি নি।
রাজা: যাও, দেখে আসো।
আবার মাঝি দৌড়ে গিয়ে দেখে এসে বললো, ৪টার রং বাদামী, ২টা কালো আর ১টার গায়ের রং খয়েরী।
রাজা এবার মন্ত্রীকে ঘুম থেকে ডেকে বললেন, যাও তো দেখে আসুন, এতো ক্যাঁচাল কিসের?
মন্ত্রী কিছুক্ষণ ফিরে এসে বললেন, খাবারের কাড়াকাড়ি করার জন্য কুকুরগুলো ঝগড়া করছে।
রাজা: কয়টা কুকুর ঝগড়া করছে?
মন্ত্রী: ৩টা কুকুর ও তাদের ছানা পোনারা।
রাজা: কয়টা ছানাপোনা?
মন্ত্রী: ৪টা ছানাপোনা।
রাজা: এদের কয়টা মাদী আর ময়টা মর্দ?
মন্ত্রী: ৪টা মর্দ ও ৩টা মাদী।
রাজা: তাদের গায়ের রং কি?
মন্ত্রী: ৪টার রং বাদামী, ২টা কালো আর ১টার গায়ের রং খয়েরী।
রাজা এবার মাঝি দুইজনের দিকে ফিরে বললেন, এবার কি বুঝেছো কি কারণে তোমরা এতো বেশি পরিশ্রম করেও কম আয় করো আর মন্ত্রী কম পরিশ্রম করেও বেশি আয় করো?

No comments:

Post a Comment