Pages

Pages

বাংলা শব্দ দিয়ে সার্চ করুন

Saturday, February 11, 2017

গল্প থেকে শিক্ষা-১

আগের কথা। গভীর বনে বাস করত এক শিয়াল এবং তার পাশে বাস করত এক গরু। গরুসহ অন্যান্য প্রানীর জীবনের কোন নিশ্চয়তা ছিল না। তারা প্রতিনিয়ত বনের হিংস্র প্রাণীদের দ্বারা আক্রান্ত হত। তাই শিয়াল ও গরু মিলে চিন্তা করল বনের নিরীহ প্রাণীদের নিরাপত্তার একটি ব্যবস্থা করা দরকার। তারা দুজন একমত হল যে, বনের সকল নিরীহ প্রাণীদের নিয়ে একটি সমাজ গঠন করা হবে। তাদের এই সিদ্ধান্তে বনের নিরীহ প্রাণীরা খুশিতে উতফুল্ল হয়ে উঠল এবং তার বনের বিভিন্ন প্রান্ত হতে এসে এই সমাজের আওতাভুক্ত হয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চত করল। বনের নিরীহ প্রাণীদের নিয়ে গঠিত এই সমাজকে গরু ও শিয়াল মিলে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পারস্পরিক সহমর্মিতার মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে লাগল। এভাবে তার হিংস্র প্রাণীদের কবল থেকে নিজেদের রক্ষা করার পথ প্রশস্থ করল।
এভাবে চলতে চলতে একদিন শিয়াল ও গরু দুই বন্ধু মিলে গল্প করতে করতে নিজেদের সামাজিক বলয় অতিক্রম করে গভীর বনে ঢুকে পড়ে। তাদের সামনে উপস্থিত হল বিশালদেহী এক ভয়ংকর সিংহ। তার চোখ দিয়ে যেন অগ্নিস্ফুলিংগ ছিটকে পড়ছে এবং রাগের প্রচণ্ডতায় থরথর করে কাপছে। কেননা তাদের দুজনের কারনেই তার শিকার আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। সাথে সাথে তার আধিপত্যও কমে গেছে।
সিংহের এই রাগ দেখে শিয়াল ভড়কে যায় এবং সে মাথায় কুটিল বুদ্ধি আটে। সে গরুকে বলে, বন্ধু! তুমি এখানে থাক আমি সিংহকে গিয়ে অন্ত্যন্ত চতুরতার সাথে নিয়ন্ত্রন করছি। এই বলে সে সিংহের কাছে গিয়ে বলল মামা! আমি চিরজীবন তোমার সাথেই ছিলাম, এখনো আছি। এই দেখনা বনের নিরীহ প্রাণীদের নব জাগরনের অগ্রদূত তোমার চিরজীবনের শত্রু গরুটাকে তোমার জন্যই এনেছি। তুমি গিয়ে খেয়ে নাও এবং কলিজা ঠাণ্ডা কর।
জবাবে সিংহ বলল, আচ্ছা ঠিক আছে তুমি আগে গরুটাকে বনের পাশে একটা গোপন গর্তে নিয়ে যাও। কেননা গরুকে প্রকাশ্যে খেলে তার অনুগত জন্তুদের উপর প্রভাব পড়বে। শিয়াল হ্যা সূচক জবাব দিয়ে গরুর কাছে এসে তাকে বলল, সিংহ আমাদের পাশের গর্তে যেতে বলল তাহলে আমরা রক্ষা পাব। গরু শিয়ালের কথা সরল মনে বিশ্বাস করে পাশের গর্তে চলে গেল। এদিকে শেয়াল এসে সিংহকে বলল সে যেতে চাইছিল না অনেক বুঝিয়ে নিয়ে গেছি। যান এবার আপনার দিলটা জুড়িয়ে আসেন। সিংহ সে কথার দিকে কর্ণপাত না করে শিয়ালের উপর ঝাপিয়ে পড়ল। শিয়াল চিৎকার করে বলল হুজুর আমাকে কেন? আপনার জন্যতো গরুকে গর্তে রেখে এসছি। হুযুর অনুরোধ আমাকে খাবেন না। জবাবে সিংহ বলল, ‘ওরে শিয়াল তুই যদি তোর চিরদিনের অন্তরঙ্গ বন্ধু এবং আপদ-বিপদ ও তোদের সমাজ গঠনের অন্যতম সাথী গরুর সাথে শুধুমাত্র তোর নিজ স্বার্থ্বের জন্য বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারিস তাহ’লে তুই যে পরে আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবি না এর কি নিশ্চয়তা আছে?
ওরে মুনাফিক! এজন্য আগে তোকেই খাব। আর গরু তো গর্তে ধরাই আছে, ওকে পরে খেয়ে নেব। এই বলে সে শিয়ালের ঘাড়ে কামড় দিল। অন্যদিকে বনের প্রাণীরা এই অবস্থা জেনে ফেলে এবং তারা সবাই গর্তে আটকা পড়া তাদের প্রানপ্রিয় নেতার কাছে সমবেত হয়ে ঘটনা কি তা জানতে চায়? গরু চিয়ালের বিশ্বাসঘাতকতাসহ তার বিপদের ঘটনা পুরো খুলে বলে। বনের প্রাণীরা ঘটনা শুনে শিয়ালের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং তার করুন পরিনতিতে আনন্দ প্রকাশ করতে থাকে।
এদিকে সিংহ শেয়ালকে শেষ করে গরুকে খাওয়ার জন্য অগ্রসর হয়। বনের প্রাণীরা তার আগমনের সংবাদ পেয়ে অত্যন্ত সুসঙ্গবদ্ধভাবে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় গরুকে ঘিরে এক নযীরবিহীন নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করে এবং সকলেই একসাথে নিজ নিজ কণ্ঠে ভীষন আওয়াজে হুংকার দিতে থাকে। তাদের এই সমবেত হুংকার বনের চারিদিকে এক রণতরঙ্গ সৃষ্টি করে। তাদের এই রণতরঙ্গে হিংস্র সিংহের হুংকার বিলীন হয়ে যায়।
সিংহ তাদের এই অবিচ্ছেদ্য অটুট একতা দেখে এবং তাদের হুংকারে ভড়কে যায়। গরুকে খাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে পিছুটান দেয় এবং পালিয়ে বনের ভিতর চলে যায়।
অন্যদিকে নিরীহ হাযার হাযার প্রাণীর সমবেত উচ্চারণ বনের দিগ-দিগন্তে পৌঁছে যায় এবং সবাই তাদের একতা, সহমর্মিতা, সহযোগিতার কথা জানতে পারে এবং হিংস্র প্রাণীরা ছাড়া বনে আরো আরও যত প্রাণী ছিল সবাই গরুর নেতৃত্বে সমবেত হয় এবং শান্তি প্রতিষ্টার লক্ষ্যে একই সমাজভুক্ত হয়। এইভাবে পুরো বন নিরীহ প্রাণীদের আওতাধীন হয় এবং সমস্ত বনের নেতা গরু হয়।
শিক্ষাঃ উপরোক্ত ঘটনায় শিয়াল স্বজাতি ও বন্ধুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে নিজের স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে সিংহের হাতে ধরা পড়ে যায় এবং দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়। তেমনিভাবে যুগে যুগে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তাদের পরিনতিও হয়েছে একইরূপ। সুতরাং আজকের যুগে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে তাদের পরিনতিও একই হবে। জামা’আতবদ্ধ মানুষ সুসংবদ্ধভাবে সততা, একতা, মৈত্রী ও সহমর্মিতার সাথে কোন উদ্দেশ্য নিয়ে একজন নেতার অধীনে সমবেত হয়ে যদি সম্মুখপানে অগ্রসর হয় তা’হলে যেকোন শক্তিই হার মানতে বাধ্য।

লিখেছেনঃ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাজ্জাক

No comments:

Post a Comment