Pages

Pages

বাংলা শব্দ দিয়ে সার্চ করুন

Saturday, March 11, 2017

দোজখের ছোট ইন্ধন

হযরত বাহলুল (রাঃ) বণর্না করেন,
বসরার পথে আমি কয়েকজন
যুবকের সাক্ষাৎ পেলাম যারা
আখরোট এবং বাদাম নিয়ে
খেলা করছিল । সামান্য দূরে এক
যুবককে দেখতে পেলাম । সে
তাদের খেলা দেখছিল আর
কাঁদছিল । আমি ভাবলাম , এই
ছেলে হয়তো ঐ ছেলেদের
কাছে আখরোট এবং বাদাম
দেখে কাঁদছে । আমি তাকে
বললাম, হে ছেলে কাঁদছ কেন ?
আমি তোমাকে বাদাম ও
আখরোট কিনে দিব । তুমি তা
খেতে পারবে ।
আমার কথা শুনে ছেলেটি মাথা তুলে আমার দিকে তাকাল এবং
বলল, হে নির্বোধ , আমি খেলাধুলার জন্য সৃষ্টি হইনি ? আমি বললাম ,
হে সাহেবজাদা, তাহলে কি জন্য সৃষ্টি হয়েছ ? সে বলল , আল্লাহর
ইবাদতের জন্য । আমি বললাম এটা তুমি কোথা হতে জানতে পারলে ?
আল্লাহ্ তোমার জীবনে বরকত দান করুন । সে বলল, আল্লাহ্ তাআলা
বলেছেন :
অর্থ : তোমরা কি ধারণা করেছ যে , আমি তোমাদেরকে অযথা সৃষ্টি
করেছি , আর তোমরা আমার নিকট প্রত্যার্বতন করবে না । ( সূরা মুমিনূন : ১১৫)
আমি বললাম , হে সাহেবজাদা ! তোমাকে তো বুদ্ধিমান মনে হয় ।
আমাকে কিছু নসিহত কর । সে বলল, দুনিয়া খুবই ক্ষণস্থায়ী । দুনিয়া
চিরকাল কারো জন্য থাকবে না । মানুষও দুনিয়ায় মরণহীন থাকবে না । দুনিয়ার জীবন আর মৃত্যু মানুষের জন্য এমন , যেন
দুটি ঘোড়া দ্রুতগতিতে একের পর এক এগিয়ে আসছে । হে দুনিয়া প্রেমিকগণ ! তোমরা দুনিয়া পরিত্যাগ কর এবং
পরকালের সফরের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ কর ।
হযরত বাহলুল রাহ. বলেন , এই কথা বলে সেই যুবক আসমানের দিকে তাকাতে লাগল এবং হাতে কি যেন ইশারা করে
কাঁদতে লাগল । তার দুই গন্ড বেয়ে মুক্তার মতো অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল তখন সে একটি ব্যথা ভরা কবিতা পাঠ করল ।
কবিতা পাঠ করে সে বেহুশ হয়ে পড়ে গেল।
আমি তার মাথা আমার কোলে উঠিয়ে নিলাম এবং আমার জামার আস্তিন দ্বারা তার চেহারার ধুলো পরিষ্কার
করলাম । কিছুক্ষণ পর তার হুঁশ ফিরে এলো , আমি বললাম , সাহেবজাদা ! তোমার কি হয়েছিল ? তুমি তো এখনও নিষ্পাপ । কোন গোনাহই তোমার নামে লেখা হয়নি । সে বলল, হে বাহলুল ! আমাকে ছেড়ে দাও । আমি আমার মা’কে দেখেছি তিনি যতক্ষণ পযর্ন্ত বড় বড় লাকড়ির সঙ্গে ছোট ছেট খড় – কুটো না দিতেন ততক্ষণ পযর্ন্ত আগুন উত্তপ্ত হতো না । আমি ভয় করি , দোজখের ছোট ইন্ধন যেন আমি না হই ।
হযরত বাহলুল (রাঃ) বলেন , আমি বললাম , সাহেবজাদা ! তুমি বড় বুদ্ধিমান ও হুশিয়ার। আমাকে আরো কিছু নছীহত কর ।
সে বলল, আফসোস ! আমি গাফলতের মধ্যে রয়েছি , অথচ মৃত্যু আমার পিছু ধাওয়া করছে । আজ না হোক কাল তো অবশ্যই মরতে হবে । দুনিয়াতে নিজের শরীরকে উন্নতমানের পোশাক - পরিচ্ছদ দ্বারা সাজ্জিত করে কি লাভ ? মৃত্যুর পর তো এই দেহ গলে মাটি হয়ে যাবে । কবরে মাটির চাদর এবং মাটির বিছানা থাকবে।মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই সৌন্দর্য নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে । হাড় গোস্তের সামান্য চিহ্নও থাকবে না । জীবনের কতটা কাল অতিবাহিত হয়ে গেল , কিন্তু তারপরও কোন কিছুই অর্জিত হলো না ।
জীবনের দীর্ঘ সফরের কোন পাথেয়ই আমার নেই । আমি আমার হাকীম ও মালিকের সামনে গোনাহর বোঝা নিয়ে কিভাবে দাঁড়াব ?
দুনিয়াতে হাজার পর্দার মাঝ থেকে তাঁর নাফরমানী করেছি , কিন্তু কেয়ামতের দিন সেসব গোনাহ ‘আলেমুলগায়েবে’র সামনে প্রকাশ হয়ে পড়বে ।তিনি ইচ্ছে করলেই শাস্তি দিতে পারেন । আল্লাহ্ তাআলা খুবই দয়ালু ।
হযরত বাহলুল রাহ. বলেন , ঐ ছেলে যখন তার কথা শেষ করে চুপ হয়ে গেল , তখন আমি বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলাম । তখন সেই ছেলেটি চলে গেল । পরে আমার হুঁশ ফিরে এলে আমি তাকে ছেলেদের মধ্যে তালাশ করে কোথাও খুজে পেলাম না । সেই ছেলেদের অবস্থা জিজ্ঞেস করলে তারা বলল, , তুমি তাকে চিন না ? সে হলো , হযরত হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবু তালেব (রাঃ) এর বংশধর । আমি বললাম, আমার ধারণা ছিল , নিশ্চয় সে এমনই বড় কোন বৃক্ষের ফল হবে।

No comments:

Post a Comment